বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ড. ইউনূসের রায় আজ

আদালত প্রতিবেদন:: নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ সোমবার। ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানার আদালতে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হবে।

এর আগে রবিবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে মাঝে বিরতি দিয়ে রাত সোয়া ৮টা পর্যন্ত এ মামলার শুনানি চলে। শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। শুনানিকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মামলার অন্য তিন আসামি হলেন- গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুর জাহান বেগম ও শাহজাহান।

মামলার বাদী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, যুক্তিতর্ক শুনানিকালে তিনি ড. ইউনূসসহ চারজনের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন শুনানিতে ড. ইউনূসসহ চার বিবাদীকে মামলা থেকে খালাস দেওয়ার আরজি জানান।

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে মামলা করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর।

মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকম পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তারা শ্রম আইনের লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে পারেন। এর মধ্যে ১০১ শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা থাকলেও তাদের স্থায়ী করা হয়নি। শ্রমিকদের অংশগ্রহণের তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়নি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি।

এছাড়া গত ৩০ মে ড. ইউনূসকে প্রধান আসামি করে আরও ১২ জনের নামে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। পরে গত ৫ অক্টোবর দুদকে যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, আমি কোনো অপরাধ করিনি। তাই আমি শঙ্কিত নই।

এর আগে ৩০ নভেম্বর অপর এক মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের ১০৬ শ্রমিককে বিধি অনুযায়ী মুনাফা দিতে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় এখতিয়ারবহির্ভূত ঘোষণা করে তা বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। লভ্যাংশ চেয়ে শ্রম আইনের ২৩১ ধারায় করা শ্রমিকদের মামলার রায়ে আদালত বলেছেন, গ্রামীণ কল্যাণের শ্রমিকরা মুনাফার অংশ পাবে কি না, শ্রম আইন অনুসারে সে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের নেই।

গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘শ্রম আইনের ২৩১ ধারা অনুসারে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো চুক্তি হলে এবং সে চুক্তি নিয়ে কোনো বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিষ্পত্তি করার এখতিয়ার শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের আছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের সঙ্গে গ্রামীণ কল্যাণের কোনো চুক্তি না থাকায় কোনো বিরোধও ছিল না। ফলে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়টি এখতিয়ারবহির্ভূত ঘোষণা করে তা বাতিল করেছেন হাইকোর্ট।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com